​অতঃপর আমি বিবাহিত

Post ID # 002

৫ দিন হল দেশে আসলাম। মাত্র ২৫ দিন এর জন্য আসা। তাও আসতাম না যদি না আব্বু বলত তোমার আম্মু অসুস্থ।
কিন্তু আসার পর দেখলাম আম্মু পুরাই সুস্থ। আর আমাকে দেশে আনানোর বড় কারণ হচ্ছে বিয়ে। মানে আমার নাকি বিয়ের বয়স হইছে তাই।

আজ আব্বু আম্মু মেয়ে দেখতে গেছে। বিয়ের দিনও পাকা করে আসছে। মোটকথা মেয়ে তাদের আগেই পচন্দ করা।
আমি কিছুই বলিনি কারণ বলেও লাভ হবে না।আব্বু যেখানে আমি সেখানে নাই। তাই রাজি হতেই হল।

আম্মুকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু বুঝল না।ওনার এক কথা বিয়ে আমাকে করতেই হবে। ওনাদের বঊমা দরকার।

আগামি ৪ দিন পর বিয়ে।
সময়টা মনে হয় অনেক তারাতারিই চলে যাচ্ছে। আমার বিয়ে। কিন্তু মেয়েকেই ত চিনি না। যানি না। কি সুভাগ্য আমার একটা বোন ও নাই। থাকলে নাহয় ওর কাছ থেকে জেনে নেয়া যেত। একেই বলে কপাল।শা…
আম্মু টাও না কেমন?? আজ ৩ দিন আব্বুর আশে পাশেই।

আইডিয়া.. হু হা হহা

নতুন সিম কিনে আম্মুর কাছে ফোন দিলাম। এমা এত দেহি আমার আব্বা। তারাতারি কেটে দিলাম।যাক বাবা বাচলাম

ভাবছিলাম আম্মুরে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করব: হেলো আন্টি। আমি আরাফাত এর বন্ধু। মেয়ে কেমন? কোথায় পড়াশোনা করে?? বাসা কোথায়??

না লাভ নাই।

এইত একটু পরেই আমার সরি আমাদের বাসররাত। যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে তাই কোনো কিছুই একা আমার না। আমাদের।

আমার রুমে অহ হ আমাদের রুমে ঢুকলাম। মেয়ে মানে আমার বউ বসে আছে। সে নিজেই তার ঘোমটা টা সরাল।

কিন্তু.. কিন্তু..এ মেয়ে ত ইভা। আমার ফুফুর মেয়ে। আমি

যাকে আজ থেকে ৫ বছর আগে প্রপোজ করছিলাম। তখন আমাকে অনেক অপমান করে। আমি নাকি তার যোগ্য না। হেন তেন। পরিবারের কেউ কিছুই জানত না। অনেক ভালবেসে ছিলাম।

অত অপমানের পর আর কখনই ওর সাথে যোগাযোগ করিনি। তাই আমি স্কলারশিপ এ নিউজিল্যান্ড চলে যাই।

আর এখন তাকেই বিয়ে করলাম। তাও মা বাবার ইচ্ছায়।
ইভা: দেখ আমি তোকে বিয়ে করতে চাইনি। আমার মা বাবা ই তোর মা বাবার সাথে কথা বলে এইসব করছে।( যেহেতু আমরা সমবয়সি ছিলাম তাই ২জন ২জন কে তুই বলেই ডাকতাম)

আমি: আমি কিছুই যানি না। আম্মু আব্বু আমাকেও কিছু বলে নি। আর যদি জানতাম তাহলে এই বিয়ে করতাম না।

ইভা: আমি তোকে কখনই স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারবনা। সো বাকিটা কিভাবে সামলাবি তুই জানিস।

: ওকে। চিন্তা করিস না। আমি বেশি দিন দেশে থাকবনা। যতদিন আছি তুই অভিনয় করে চালিয়ে যা। আমি কোনো অধিকার দেখাতে যাব না।

: হুম। আমি ঘুমালাম।

: হুম। শুভ রাত্রি।

আমি একটা সিগারেট নিয়ে বারান্দায় চলে আসলাম। আর ভাবতে লাগলাম। কি দোষ করছি জিবনে? যে এইভাবে শাস্তি পাচ্ছি।

তারপর দিন থেকে ও খুব ভাল ভাবেই অভিনয় করে চলেছে। আমি কিছুই বলতাম না। শুধুই দেখতাম।
কাল সকালে চলে যাব। ভাবছিলাম আর কিছু দিন থেকে যাব। যদি ওর মনে জায়গা করে নিতে পারি। কিন্তু না। মনে হয় এটা সম্ভব নয়।

রাতে আমার রুমে:

আমি: তুই যা ই করিস আম্মু আব্বুর প্রতি যত্ন নিস। আর যদি কোনো ভুল করে থাকি মাফ করে দিস।

ইভা: হুম।

আমি অবাক হলাম ও খুব সাবলীল ভাবেই কথা বলছে দেখে।একটা বড় নিঃস্বাস ছেরে বললাম।

আমি: ১৫-২০ দিন পর ডিভোর্স লেটার টা পাঠিয়ে দিব। সাইন করে দিস।

ইভা: যা করিস একটু তারাতারি করবি।

একথা টা শোনার পর আমার চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই ২ফোটা পানি বাহির হয়ে গেল।
দেশে থাকতেই ওকে ডিভোর্স দিতে পারতাম কিন্তু আম্মু আব্বু ইভাকে সন্দেহ করবে তাই আর কিছু করি নি। কারণ ইভাকে আমি ভালবাসি। বিদেশ থেকে দিলে আমাকে আব্বু আম্মু যা খুশি তাই ভাবুক।
আর ২০মিনিট পর ফ্লাইট। একটা কথাই মনে পরছে: সবাই সব কিছু পায় না। আমি না হয় তাদের ই দলে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s