জীবনটা জয় করতেই হবে

Post ID # 007

অনেক বছর আগে , আমরা তখন সম্ভবত মাত্র এমবিবিএস থার্ড ইয়ারে উঠেছি। আমাদের এক লেকচারার ক্লাসের এক মেয়ে ব্যাচমেটকে প্রপোজ করেন এবং হুটহাট উনাদের বিয়ে হয়ে যায়।

সেই স্যার খুবই ভালো মানুষ ছিলেন , ভদ্র , বিনয়ী , সহজ সরল , নরম স্বভাবের। তাও এত সিনিয়র প্লাস স্যার হয়ে ছাত্রীকে প্রোপোজ করার ব্যপারটায় আমরা হাসাহাসি করতাম। তখন তো আমরা মাত্র থার্ড ইয়ারে পড়তাম , যা দেখি ফানেলের মাঝে দিয়ে দেখতাম , পেরিফেরাল এক জেলা শহরে এতো বড় দুনিয়া দেখার সুযোগ কোথায়???

আর যেহেতু দুষ্টু ছেলে ছিলাম , সেই স্যারের সাথে দেখা হলে ফাজলামো করতাম।

” কি স্যার , এটা কি করলেন? দুলা তো ভাই হয় , আপনি তো দুলা স্যার হয়ে গেলেন ”

স্যারও হেসে বলতেন ,
” কি এতো স্যার স্যার করিস। ভাই ডাক ভাই ”

কিন্তু কে শুনে কার কথা!

স্যার কখনও রাগ করতেন না, হাসতেন। লোকটার ব্যবহার অমায়িক বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই ছিলো।

আমার সেই ব্যাচমেট এবং উনার বিবাহিত জীবন এতটাই সিম্পল এবং সুন্দর ছিলো যে এক সময় আমরা যারা তাদের নিয়ে মশকরা করতাম , তারাই বছর ঘুরতে না ঘুরতে সুখী দম্পতির উদাহরণ দিতাম তাদের দাম্পত্য জীবনকে।

এর মাঝে তাদের একটি ফুটফুটে মেয়ে হলো। সিম্পলি হ্যাপি ফ্যামিলি বলতে যা বুঝায়।

এভাবেই কেটে যাচ্ছিলো দিনগুলো।

তো আমাদের তখন ইন্টার্নশীপ শেষ। একদিন হুট করে শুনলাম সেই স্যার এক্সিডেন্ট করেছেন।
স্যার সাইকেল চালিয়ে হাসপাতালে আসতেন। মেডিকেলের জাস্ট গেইটটা হলো হাইওয়ের উপর। সেই গেইটের সামনে একটি ট্রাক স্যারের সাইকেলটাকে মেরে দেয়।

সাথে সাথে স্যারকে হাসপাতালে নেয়া হয় , হেড ইঞ্জুরী বুঝতে পেরে এয়ার এম্বুলেন্স ডেকে ঢাকা রেফার করা হয়।

কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও স্যারকে বাচানো যায়নি। হাসপাতালেই স্যার মৃত্যুবরণ করেন।

স্যারের মৃত্যুর পর আমরা খুব ভয়ে ছিলাম আমাদের সেই ব্যাচমেটকে নিয়ে। মেয়েটা অনেক বেশি সেন্সেটিভ ছিলো।

আমরা ভয় পাচ্ছিলাম সে ভেঙ্গে পড়বে বা উল্টাপাল্টা কিছু করে বসতে পারে।

দিন যেতে থাকে , তাদের সন্তান বড় হতে হতে থাকে। আমার সেই বান্ধবী ছবি এডিট করে ফ্যামিলি ছবি বানাতো , স্যার , সে ও তাদের মেয়ে। বানিয়ে ছবিগুলো ফেইসবুকে দিতো।

পিচ্চি মেয়েটার বিভিন্ন বয়সে তার বাবার সাথে এডিট করা ছবি আছে , কিন্তু তার মনে বাবার কোন স্মৃতি আছে কি না আমার জানা নাই।

এসব দেখে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতাম। কারন মেয়েটা সেই মুহূর্তটা থেকে বের হতে পারছিলো না। সহস্রাব্দ বসে ছিলো সেই একটি মুহূর্তে…

প্রত্যেকটি মানুষের ভালবাসার অভিব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয় , এটি ছিলো তার ভালবাসার অভিব্যক্তি , সত্য নিগুড় ইস্পাত কঠিন ভালবাসা।

কিন্তু আজ যখন জানতে পারলাম সে জীবনটাকে ব্যালেন্সড ভাবে সামনে নিয়ে যাচ্ছে , চাকরি করছে , ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছে… ব্যপারটা জেনে অদ্ভুত রকমের একটা স্বস্তি পেলাম।

জীবন মানুষকে সব শিখিয়ে দেয় এবং জীবনে সব নিয়েই এগিয়ে চলতে হয়।

এটা আপনার উপর নির্ভর করবে যে আপনি আপনার কষ্টগুলোকে দূর্বলতা ভাবেন নাকি শক্তি।

আল্লাহ পৃথিবীর প্রতিটি ভালবেসে আহত হওয়া হৃদয়কে শক্তি দিক।

বেচে থাকা মানেই লড়ে যাওয়া , লড়ে যাওয়া মানেই জয়ের জন্য লড়া।

জীবনটা জয় করতেই হবে…

-কার্টেসিঃ জামান সানি

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s