টুকি তার মা’কে দেখতে পেয়ে দৌড়ে গেলো…

Post ID # 019

টুকি তার মা’কে দেখতে পেয়ে দৌড়ে গেলো। টুকির মা দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। মেয়েকে এতক্ষণ পর দেখতে পেয়ে নিজেকে সামলাতে পারেন নি। চোখে জল , চেহারায় উচ্ছাসটা ঠিকই ধরে নেয়া যায়। থাকবে না বা কেন? মেয়েকে হারিয়ে পাগল মতো হয়ে গিয়েছিলেন নিশ্চয়? হাটু গেড়ে বসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। এই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসার দৃশ্য!!
.
“তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা”
.
_ চোখের জল মুছতে মুছতে বলল টুকির বাবা। উত্তরে হাসলাম আমি। টুকির মা ততক্ষণে নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছে
.
টুকির সাথে পরিচয় মাত্র তিন ঘন্টার। জয়ীতার সাথে গিয়েছিলাম মার্কেটে। এক কোণায় চোখ গিয়ে থমকে গেলো। মাকে হারিয়ে এক পাশে বসে কাঁদছিল মেয়েটি। আমি আর জয়ীতা সামনে এগিয়ে গেলাম। প্রথমে কিছুতেই সে কথা বলবে না। অপরিচতদের সাথে কথা বলতে টুকির মায়ের বারণ। পরে তাকে স্বাভাবিক করে জানলাম , মায়ের সাথে শপিং করতে এসে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে।
.
“বাবা , ভেতরে এসো” _ আমার দিকে তাকিয়ে বলল টুকির মা।
.
“আজ না আন্টি , অন্য কোন দিন। সন্ধা ঘনিয়ে আসছে, আজ ফিরতে হবে” _ উত্তরে বলল জয়ীতা। আমিও মাথা নেড়ে সাই জানালাম
.
টুকির বাবা কাছে এসে হাত ধরে বললেন, _ “এইভাবে যেতে দেই কিভাবে? কিছু মুখে না দিয়েই…”
.
টুকির বাবাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে তার হাত ধরে অপরাগতা জানালাম। ভদ্রলোক সমস্যা বুঝতে পেরে চুপ হয়ে গেলন। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন
.
“কথা দিয়ে যাও ফের আসবে?” _ আমি আর জয়ীতা হেসে কথা দিলাম
.
ফেরার আগে টুকি ইশারায় ঝুকতে বলল। একটু ঝুকে তার মুখের কাছে যেতেই গালে আদর বসিয়ে দিলো মেয়েটি। হঠাত্‍ কেন যেন বুকের ভেতরটা হাহা করে উঠল। কাউকে আপন করে তাকে হারিয়ে ফেলা অনুভুতিটা যে খুব কষ্টের…
.
টুকির বাসা থেকে বের হওয়ার পর মনটা বেশ খারাপ ছিলো। আনমনে বসেছিলাম গাড়িতে।
.
“এই রুদ্র” _ কিছুটা ধমকের সুরে বলল জয়ীতা। হঠাত্‍ খেয়াল ফিরে পেয়ে জয়ীতার দিকে তাকালাম। অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে সে।
.
“তোর কি হয়েছে বল তো? টুকিকে রেখে আসার সময় থেকে দেখছি কেমন যেন চুপ হয়ে আছিস?
.
আমার হাতটা ধরে বলল জয়ীতা। তার চেহারায় চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। হাসলাম আমি। জয়ীতা ভুর কুচকে তাকলো
.
“কিছু হয়নি আমার । কি হবে?”
.
“কিছু না হলে , জয়ীতা যখন তার মাকে জড়িয়ে কাঁদছিল তখন তোর চোখে পানি ছিলো কেন?
.
জয়ীতার কথায় চুপ করে রইলাম। অবাক হলাম কিছুটা। জয়ীতা লক্ষ করেছিল তখন আমাকে? আমতা আমতা করতেই সে বলল,
.
“ভনিতা করবি না একদম। বল তোর কি হয়েছে? _ চোখে চোখ রেখে বলল জয়ীতা। কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না বলার
.
আচ্ছা আমি জয়ীতাকে কি উত্তর দিবো?জয়ীতাকে যদি বলি, টুকি যখন তার মাকে জড়িয়ে কাঁদছিল আমি তখন সেই দৃশ্য নিজের ছায়া খুঁজে পেয়েছিলাম? আমি ফিরে গিয়েছিলাম আমার সেই ছোট্ট বেলার সময়টিতে? ছোটবেলায় মা রোজ আমাকে এইভাবে জড়িয়ে ধরে কাঁদত ..


.

আমার এখনো মা মারা যাওয়ার পরের দৃশ্যটি চোখে ভাসে। সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে মা হাসি মুখে বিদায় দিয়েছিলেন। মায়ের সে হাসির পিছনে কষ্ট ছিলো। মুখে ছিলো দাগ , মায়ের মুখে ওমন দাগ প্রায় দেখতাম। রাতে ঘুমতাম প্রচন্ড ভয় নিয়ে। পাশের রুম থেকে মায়ের চাপা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেতাম রোজ। শুনতে পেতাম এক হিংস্র চিত্কার। বাবা নেশা করে এসে রোজ হাত তুলতেন মায়ের গায়ে।
.

এত কিছুর পরেও মাকে আমি কখনো প্রতিবাদ করতে দেখিনি। সব কিছু মুখ বুঝে সইতেন। মাঝে মাঝে আড়ালে কাঁদতেন মা , আমি চুপচাপ দেখতাম। কখনো কিছু বলার ছিলো না , মাঝে মাঝে কাঁদতে থাকা মায়ের চোখের পানি মুছে কোলে শুয়ে থাকতাম। মা আমার কপালে চুমু খেয়ে কষ্ট লুকিয়ে হাসতেন। আমার কপালে হাত বুলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পরতাম।
.

একদিন স্কুল ছুটির পর বাসায় এসে দৌড়ে রান্না ঘরে গেলাম। আমাকে দেখে মা আচল দিয়ে চোখ মুছলেন। আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন।
.
– কিরে খোকা স্কুল ছুটি?
.
_ চুলোয় দেয়া রান্না দেখতে দেখতে বললেন মা। আমি চুপ হয়ে রইলাম। আমার চুপ করে থাকা দেখে মা কাছে এলেন। হাটু গেরে বসে মা তার দু হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন
.
“কি হয়েছে খোকা?”
.
অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম।
.
“বাবা ফের তোমাকে মেরেছে মা?_ না পেরে যখন বললাম কথাটি মা তখন অঝড়ে কাঁদলেন। আমাকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন অনেকক্ষণ। আমি কাঁদিন সেইদিন।
.

ছোটবেলা থেকেই একটা ভয়ের মাঝে বেড়ে উঠেছিলাম। এক অদৃশ্য ভয়। শুধুমাত্র মায়ের কোলে মাথা রাখলেই সেই ভয় থেকে মুক্তি পেতাম। মনে হতো মা আছে পাশে, আমার কিসের ভয়??
.
সেদিন স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের হাতে পায়েস খেলাম। মা র মুখে তখন কাটা দাগ। তবুও মা হেসে বিদায় দিলেন। স্কুলের মাঝামাঝি সময় রহমত চাচা গেলেন। রহমত চাচা আমাদের বাসার দারোয়ান। স্যারকে ডেকে কি যেন বললেন। আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম রহমত চাচার চোখে পানি। পুরো রাস্তায় কাঁদলেন তিনি। কতবার জিগেস করলাম _ “চাচা কি হয়েছে?” উত্তর দেন নিই ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদেছেন শুধু
.
যখন বাসায় ঢুকলাম তখন অনেক মানুষ। কেউ কাঁদছে , কেউ বা চুপচাপ দাঁড়িয়ে। আমাকে দেখে কয়েকজন তাকালো। দূর থেকে দেখলাম বাবা একপাশে দাড়িয়ে আছে। তার চেহারা নির্লিপ্ত
.
রহমত চাচা আমার হাত ধরে ভেতরের রুম নিয়ে গেলেন। আমার মায়ের রুমে তখন বাড়ির মহিলারা কোরআন তিলাওয়াত করছেন। ফ্লোরের মাঝ বরাবর তাকিয়ে রইলাম আমি। মায়ের মাথার পাশে নানু বসে কাঁদছেন। আমার মায়ের চেহারাটি সাদা কাপড় দিয় ঢাকাছিলো। নানু আমাকে দেখে কাছে এলেন, জড়িয়ে ধরে হাঁওমাও করে কাঁদলেন। আমি কাঁদতে পারিনি সেইদিন। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম মায়ের নিথর পরে থাকা লাশের দিকে
.

ডাক্তার সার্টিফিকেটে এলো মা আত্মহত্যা করেছেন। গলায় ফাঁসির দাগ। আমি জানি , আমার মা আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি কেনো নিজেকে মারবেন? বাবার অত্যাচারের মাঝে তার বেঁচে থাকার কারন ছিলাম একমাত্র আমি। মা আমাকে ফেলে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না।
.

[]

মা মারা যাওয়ার পর আমার ভয় বেড়ে গেলো। রাতে ঘুমলেই মায়ের সেই চাপা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসত কানে। শুনতে পেতাম বাবার চিত্কার। আমার ঘুম হতো না রাতে। মনে হতো মা যেখানে আছেন সেখানেও কাঁদছেন। আমার জন্য কাঁদছেন। রোজ রাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে একা বিছানায় বালিশ জড়িয়ে কেঁদেছি। কাঁদতে কাঁদতে মাকে ডাকতাম, খুঁজতাম মায়ের কোল। আমি জানতাম মা আসবেন না। মাকে ডাকতে ডাকতে ঘুমিয়ে যেতাম। মাঝে মাঝে ভোরে ঘুম ভাঙ্গলে রহমত চাচাকে দেখতাম মেঝেতে শুয়ে আছেন। মা মারা যাওয়ার পর রহমত চাচা আমার দেখাশোনা শুরু করলেন।

.

আমি বাবার সামনে যেতে ভয় পেতাম। শুধু বাবা না এক অদৃশ্য ভয়ে আমি আশেপাশে সবার থেকে গুটিয়ে থাকতাম। স্কুলে গেলে কোণার বেঞ্চিটিতে বসে থাকতাম। আমার বন্ধু , কাছের মানুষ বলতেই ঐ রহমত চাচায় ছিলেন।

.

একরাতে ঘুমতে যাওয়ার আগে বাবা ডেকে পাঠালেন। মা মারা যাওয়ার পর ঐ রুমে আমি ঢুকতাম না , দরজার কাছেই দাড়া গিয়ে দাঁড়ালাম
.
_ “রুদ্র ভেতরে এসো”
.

পৃথিবীতে কোনো ছেলে তার বাবার কন্ঠ শুনে ভয় পেতে কিনা জানিনা। তবে আমি পেতাম , ভিষণ ভয় পেতাম। বাবার ডাকে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে থাকলাম দরজায়

.

_ “কি হলো ?? এসো ভেতরে”

ধমকের সুরে বললেন বাবা। আমি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম।
.

সোফায় বাবার পাশে এক মেয়েকে জড়সড় হয়ে বসে থাকতে দেখলাম। বয়সে বাবার অর্ধেক হবেন।

.

– “কি হয়েছে এইভাবে জড়সড় হয়ে আছ কেন?”
.

বাবার কথায় উত্তর দিলাম না। আমার চোখ তখন বাবার খাটের পাশে থাকা ছবির ফ্রেমের দিকে। ঐ ফ্রেমে বাবার সাথে আমার মায়ের ছবি ছিলো। সেই ফ্রেমে বাবার ছবি আছে ঠিকই, আমার মায়ের ছবি নেই
.

__ “তোমাকে এখানে ডেকেছি একটা কথা বলতে” _ বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন। আমার দৃষ্টি তখনো ঐ ছবির ফ্রেমের দিকেই
.

এই ঘরটা শুধু আমার মায়ের। অনেক যত্ন করে গুছিয়ে রেখেছিলেন ঘরটি। আমার মায়ের স্থান এইভাবে কেউ নিতে পারেন না।
.

__ “তুমি শুনছ আমার কথা? – একটু ধমকের সুরে বললেন বাবা। আমি ভয়ে মিশ্রিত চেহারায় তাকালাম। পাশে থাকা মেয়েটি ঘাড় উঠিয়ে তাকাল একবার
.

__ “আজ থেকে এই হচ্ছে তোমার নতুন মা। একে মা বলে ডাকবে। ঠিক আছে? – বাবা কথা গুলো বলে আমার উত্তর আশায় রইলেন। আমি কিছু না বলে বেড় হয়ে এলাম রুমটি থেকে
.

বের হতে দেখলাম রহমত চাচা দাড়িয়ে আছেন দরজার পাশে। তার চোখে জল। আমার মাথায় হাত রেখে নিয়ে গেলেন রুমে।
.

সেইদিন রাতে ঘুম হয়নি আমার। সারারাত কেঁদে ছিলাম। একটা কথায় বারবার মনে মনে বলছিলাম, এটা আমার মায়ের ঘর। আর কারো না।
[]
.

ধিরে ধিরে বড় হতে লাগলাম। আমার মায়ের ঘর তখন অন্য কারো। এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম মায়ের সব কিছু বাহিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাহিরে বের করছিলেন রহমত চাচা। দৌড়ে গেলাম চাচার কাছে
.

“এসব কোথায় নেয়া হচ্ছে?_ রহমত চাচার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি। রহমত চাচা কিছু বললেন না। একটা সময় পর সব কিছু সরিয়ে নেয়া হলো। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি শুধু।
.

স্কুলে যাওয়া হুট করে বন্ধ করে দিলাম। দেয়ার পিছনে কারণ ছিলো বাবা। নতুন ঘরে আসা মহিলাটি কে রোজ ক্ষেপাত। মা মারা যাওয়ার পর বাবা আমার খবর নেয়া ছেড়েই দিলেন। রহমত চাচা দেখতে পেতেন সব। এক রাতে রহমত চাচা গেলেন বাবার রুমে।
.
রহমত চাচা যখন ফিরে এলেন তখন তার চোখে পানি। বাবার ভুল ধরিয়ে দিচ্ছিল বাসার এক চাকর। তা তার সহ্য হয়নি, মারলেন খুব।
.
সেদিন রাতে রহমত চাচার সাথে ঘুমিয়েছি। সকালে ঘুম ভাঙ্গলো বেলা করে। ঘুম থেকে উঠে দেখলাম চাচা শুয়ে আছেন। আমি বসে আছি চাচার পাশে। বেলা গড়িয়ে দুপুর। আমি তখন নির্বাক। বাড়ির অন্য লোকেরা এলেন। রহমত চাচা আর নেই। মুর্দা বেশিক্ষণ থাকা ঠিক না।
.
সেদিন রাতে ঘুমলাম একা বাড়িতে। মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গলো। বাবার রুম থেকে হাসির শব্দ। আমি পারিনি , বাবাকে আঘাত করলাম সেই প্রথম। বাবা রেগে মারলেন। কখন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়েছি খেয়াল নেই। সকালে ঘুম ভাঙ্গল নানুর ডাকে। বাবা ডেকে পাঠিয়েছেন তাকে, এই বাসায় আর জায়গা হচ্ছে না আমার। সেই শেষবার ঐ বাসায় ছেড়ে এসেছি, আর বাবার সামনে যাইনি।
.
¤
.

নানুর বাসায় এসে নতুন জীবন পেলাম যেন। নতুন ভাবে শুরু করলাম সব। আমার বন্ধু বলতে নানু। স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম। নানু রোজ রাতে গল্প শুনাতেন।
.

আমি তখন এস এস সি দিচ্ছি। রেজাল্ট শেষে যখন নানুর কাছে গেলাম তখন নানু জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন। তার কান্নার কারন আমি জানি , মা থাকলে খুশি হতেন খুব।
.
নানু আমাকে স্বপ্ন দেখতেন খুব। রোজ রাতে সেইসব স্বপ্নের কথা বলে ঘুমতেন। ঘুমিয়ে পরার আগে আমি নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞা করতাম. নানুর স্বপ্ন পুরন করতেই হবে।
.

এইচএসসি শেষ করে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাতে নানুর জ্বর এলো। আমার মনে মনে একটা প্রার্থনা ছিলো স্রষ্টার কাছে। আমার নানুকে যাতে স্রষ্টা না ডেকে নেন। মাঝ রাতে নানু চোখ খুললেন। আমি তখন খুশি। বাকিটা রাত গল্প করলেন নানু। ভোর বেলায় ঘুমিয়ে গেলাম।
.

সকালে যখন ঘুম ভেঙ্গেছে তখন নানু আর নেই। আমি পৃথিবীর সবচেয়ে একা মানুষটি হয়ে গেলাম। নানু মারা যাওয়ার কথা শুনেও বাবা এলেন না।
.

ধিরে ধিরে নিজেকে নিয়ে একটা তীব্র ঘৃণা জন্মাল। আমার অস্তিত্ব নিয়ে। এর সাথে কাউকে জড়াতে ভয় পেতাম, খুব করে ভয় পেতাম। কারণ আমি জানি , কাছের মানুষ হারানোর কষ্ট অনেক …

.

নানু মারা যাওয়ার পরে খুব একা হয়ে গিয়েছিলাম। সেই ছোটবেলা থেকে একা একা বেড়ে উঠা। আমার বন্ধু বলতে তিনটা মানুষ ছিলো। মা মারা যাওয়ার পর রহমত চাচাই সব ছিলেন। রহমত চাচার পর যেদিন নানুর বাসায় এলাম তখন থেকে একটা ভয় কাজ করত। এই বুঝি স্রষ্টা নানুকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবেন। আমার সেই ভয় মিথ্যে ছিলো না। নানু মারা যাওয়ার পর থেকে একটা জিনিস বুঝে গিয়েছিলাম । আমাকে একা থাকতে হবে , নিজের অস্তিত্বের সাথে কাউকে জড়িয়ে হারানো ভয় ভীত থাকতে চাইতাম না। এই ভাবনায় চলছিলাম। আমার জগত বলতে শুধুই আমি।
.
ভার্সিটিতে উঠার পর সব কিছু আমার মতো করেই চলছিল। তারপর হুট করে রাকিব এলো। রাকিব , আমার জীবনের প্রথম বন্ধু এখন আরেকজন আছে, জয়ীতা। ক্লাসে আমরা তিনজন। দুজনের মাঝে থেকেও আমি আমার কথা গুলো আড়াল করে চলি। যদি তারা এসব জেন ভুল বুঝে হারিয়ে যায়??
.
সূর্যের আলো চোখ এসে পরতে বিছানা থেকে উঠলাম। গতকাল রাতে টুকিকে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুরোটা সময় জয়ীতার একটাই প্রশ্ন _ ” রুদ্র সত্যি করে বল তো , তুই কেঁদেছিলি কেন?” – আমি প্রতিবার উত্তরে হেসেছিলাম।
.
ফ্রেশ হতে বিছানা ছাড়ালাম। নানুর বিরাট বাসায় মানুষ আমরা দুজন। বুয়া আর আমি। বুয়া অবশ্য তার কাজ সেড়ে চলে যায়। ডাইনিং টেবিলের সামনে নাস্তা সাজানো। সত্যি বলতে কি, টেবিলে বসলে মাঝে মাঝে এক শুন্যতা ভর করে , নানু নেই এই একটা কথা মানতে নিলে আমার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যায়
.
নাস্তা খাওয়ার মাঝ পথে রিং হলো ফোনে , হাতে নিয়ে দেখি রাকিবের ফোন ।
.
– হ্যালো রুদ্র !
.
– বল শুনছি
.
– কোথায় তুই? _ ওপাশে রাকিবের কন্ঠে উদ্বেগ।
.
” বাসায় , কেন কোন সমস্যা? _ খাওয়া থামিয়ে বললাম আমি।
.
ওপাশে রাকিব আমতা আমতা করছে। ঘটনা বুঝতে পেরে আনমনে হাসলাম আমি। জয়ীতা গতকালের কথাটা ভুলতে পারেনি। রাকিবকে বলেছে নিশ্চয়।
.
“ক্যাম্পাসের জন্য বের হচ্ছি, এসে কথা হবে” _
.
রাকিবকে বোঝাতে বললাম আমি। ওপাশে সে কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেল । আম টেবিল থেকে উঠে নিজ রুমে গেলাম। রাকিবের এসাইন্টমেন্টের কপিটা নিতে হবে
.
[]
.
গতকাল সারারাত জয়ীতার ঘুম হয়নি। বারবার রুদ্রের ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছে। ক্লাসের সবচেয়ে হাসিখুশি ছেলাটার চোখে পানি, চাট্টে খানি কথা না। সবকিছুতেও কিছুটা নিজের উপর বিরক্ত জয়ীতা। রুদ্রকে নিয়ে সে এত কেন ভাবছে? রুদ্র তো রাকিবের মতোই বন্ধু। ইদানিং তার মাঝে “রুদ্র” প্রভাব খুব ভালোভাবেই পরেছে । এই যেমন গতকালের কথা, সারাটাদিন রুদ্রের সাথে ছিলো। তার মনে হয়েছে এইদিনটা তার কাটানো সবচেয়ে মজার একটা দিন। রাতে রুদ্র থেকে যখন বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিল তখন অজান্তেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। জয়ীতা এই মন খারাপের নাম দিয়েছে ঢংয়ের মন খারাপ।
.
” কিরে একা রুমে বসে কি ভাবছিস?
.
_রুমের বাহির থেকে দাড়িয়ে বলল জয়ীতার মা। সবাই তাদের মা মেয়ে বললেও জয়ীতা মা বলতে নারাজ। জয়ীতার মতে তার মা হচ্ছে তার বান্ধবী।
.
“কিছু না তো , ভেতরে এসো মা” _ মাকে দেখে বিছানা থেকে উঠতে উঠতে বলল জয়ীতা ।
.
জাহানারা বেগম জয়ীতার মা, ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন
.
“আমার থেকে লুকাস না কিছু, বল কি হয়েছে?”
.
” কিছু না মা , রুদ্রকে নিয়ে ভাবছিলাম”
.
” কিরে ইদানিং রুদ্রকে নিয়ে এত ভাবনা কেনো?
.
_ জাহানারা বেগম চোখ টিপ দিয়ে বলেন মেয়েকে। জয়ীতা কিছুক্ষণ অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে থেকে হেসে দেয়। জাহানারা বেগম এমন রসিকতা মেয়ের সাথে রোজ করেন। প্রত্যেক পরিবারে একজন মেয়ের ভালো বন্ধু থাকে। কেউ মায়ের মাঝে এ বন্ধুটিকে খুঁজে পায় কেউ বাবার মাঝে।
.
“তেমন কিছু না মা” _ হেসে বলে জয়ীতা ।
.
“নিশ্চয় কিছু একটা হয়েছে”_ জাহানারা বেগম জোড় দিয়ে জানতে চান।
“রুদ্র কিছু বলেছে? _ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফের জানতে চান।
.
“গতকাল টুকিকে ফিরিয়ে দেয়ার পর টুকির মা টুকিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। রুদ্র তা দেথে কেঁদেছে। পরে কেমন যেন চুপ হয়ে গেল” _ মায়ের প্রশ্নের জবাবে বলে জয়ীতা।
.
জাহানারা বেগম মেয়ের কথা শুনে হাসেন।
.
“কাঁদার মাঝে তো সমস্যা দেখছি না”
.
“সমস্যা না মা , অবাক লাগছে রুদ্রের মতো এত হাসিখুশি একটা ছেলে এসব কেঁদছে কেন? _
.
“বাসায় বসে না থেকে , খোঁজ নিয়ে দেখ । সেটাই ভালো হবে।
_ বসা থেকে উঠতে উঠতে বলে জাহানারা বেগম । জয়ীতা চুপ হয়ে থাকে।
.
ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ জয়ীতা । রুদ্রকে ফোন দিবে বলেও আর দেয় না। হঠাত্‍ রাকিবের ফোন পেয়ে মোবাইল হাতে নেয়
.
“কি রে কোথায় তুই? _ ওপাশ থেকে বলে রাকিব
.
” আমি বাসায়। রুদ্রর সাথে কথা হয়েছে?”
.
” হয়েছে , ও তো কিছু বলল না। তুই বরং বেশি ভাবছিস। ক্যাম্পাসে আস , রুদ্র আসছে” _ কথাগুলো বলে লাইন কাটে রাকিব।
.
ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয় জয়ীতা। হঠাত্‍ করে লক্ষ করল তার মন অত্যাধিক রকমের ভালো। এই ভালো লাগা কি রুদ্রের ক্যাম্পাসে আসার জন্য কিনা জয়ীতা জানে না। নিজের উপর রাগ উঠছে জয়ীতার। তার ধারনা ইদানিং তার ঢং বড্ড বেশি বেড়েছে।

[]

.

ক্যাম্পাসে ঢুকতেই রাকিব দৌড়ে এলো। তার দৌড়ে আসা দেখে অবাক হলাম। কারো কিছু হলো না তো?
.
“কি রে এইভাবে হাপাচ্ছিস কেন?” _ রাকিবের অবস্থা দেথে বললাম আমি।
.
“হাপাচ্ছি কই? ভুড়িটা একটু বেড়েছে। তাই এমন লাগছে।
.
“হাহাহা , ভুড়িটা কমিয়ে ফেললেই হয়। _ হেসে বলি আমি।
.
“ওর খাওয়া দাওয়া যে হারে বেড়েছে তাতে মনে হয়না ওটা কমবে , বরং বাড়বে”
.
_ রাকিবকে রাগানোর জন্য পিছন থেকে বলে উঠে জয়ীতা। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে জয়ীতার দিকে তাকিয়ে হাসলাম। রাকিব ও আমাদের হাসিতে যোগ দিলো।
.
ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় জায়গাটিতে বসে আছি আমরা তিনজন। জয়ীতা দিকে তাকাতেই তার মনের খচখচানি ভাবটা লক্ষ করলাম। গতকালের কথাটা তার মাথায় এখনো ঘুরছে। তার এই ব্যাপারটা দূর করা দরকার। সেটা মিথ্যে বলেই হোক, মনে মনে ভাবলাম আমি।
.
“তুই গতকালকের ব্যাপারটা এখনো ভুলতে পারিসনি জয়ীতা?”
.
এইবার জয়ীতা লজ্জা পেলো। রাকিবের সাথে আমিও হাসলাম। রাকিব বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে। জয়ীতার লজ্জা ভাবটা কমাতে বললাম
.
“গতকাল কাঁদার ব্যাপারটায় আমি নিজেই অবাক। তবে মাক খুব মিস করছিলাম”
.
আমার কথায় জয়ীতাকে আস্বস্থ দেখালো। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম আমি।
.
আড্ডা দেয়ার ফাঁকে একটা পিচ্ছি দৌড়ে এলো হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে। প্যাকেট দেখে হাসলাম আমি। জয়ীতার কোন এক মজনু রোজ রবিবার জয়ীতার জন্য একটা গোলাপ পাঠাবে। সাথে একটি চিরকুট। জয়ীতার হাতে প্যাকেটটি দিয়ে পিচ্চি দৌড় মারলো। রাকিব ও উঠে হাটা ধরলো। আমি আর জয়ীতা বসে আছি।
.
জয়ীতা গোলাপটি পাশে রেখে চিরকুট পড়ে ভুর কুচকালো। তার পরনে লাল ড্রেস ঐ ব্যাটা ভুজল কিভাবে! জয়ীতা এমনিতে এই লুকোচুরি খেলায় ভিষণ বিরক্ত। এসব ন্যাকামো তার একদম পছন্দ না।
.
জয়ীতার ভুর কুচকে থাকে দেথে বললাম
.
“কি রে তোর মজনু কি বলল?
.
“শুধু কি আর মজনু? বল কবিও। অসহ্য লাগে আমার। এইভাবে এমব্রেস করার মানে হয়? _ রেগে বলল জয়ীতা।
.
রাগাতে গিয়ে আর রাগালাম না। জয়ীতা এমনিতে ভীষণ রেগে আছে। দূর থেকে দেখলাম রাকিব আসছে
.
“কি রে কই ছিলি তুই? _ ঝাঝাল কন্ঠে জানতে চায় জয়ীতা। তা দেখে হাসলাম আমি। রাকিব বেচারার উপর রাগ ঝাড়বে সে।
.
“একটু হালকা হতে”
.
_ রসিকতা করে বলে রাকিব। আমি চুপ থাকতে না পেরে হাসলাম
.
“ছিঃ অসভ্য” _ রাকিবের দিকে তাকিয়ে নাক কুচকে বলে জয়ীতা
.
“অসভ্যতার কি দেখলি?! চাপ আসলে হালকা তো সবাই হয়। আমি হই , তুই হস”
.
হাসতে হাসতে বলে রাকিব। এদিকে আমি হাসতে গিয়ে হেল পরেছি। রাগে চেহারা লাল হয়ে আছে জয়ীতার। শেষ না পেরে উঠে হাটা ধরল সে। রাকিব জয়ীতার চলে যাওয়ার পথে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পিছুপিছু ছুটলো। আমি তাদের দুজনের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। আমার এই কাছের দুটো মানুষকে হারাতে দিবো না কখনো
.

[]
.

জয়ীতার ঘুম আসছে না। তার রাগ লাগছে পাঠানো বক্সটা নিয়ে। এই নিয়ে চারটা। প্রত্যেকটা চিরকুটে এমন কিছু থাকে যা জয়ীতার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এমন কিছু কাছের মানুষদের ছাড়া কারো জানার কথা না। সব কিছুর মাঝে রাগের আরেকটা কারণ হচ্ছে গিফট দেখার রুদ্রের হাসি দেখে। তাকে কোন ছেলে গিফট পাঠাচ্ছে তা দেখে রুদ্র হাসবে কেন??
.
মোবাইলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাতে নিলো জয়ীতা। রুদ্রের নাম্বার ডায়েল করে অবাক হলো সে। রুদ্রকে কল দিচ্ছে কেন?
.
“হ্যালো _ ঘুম ঘুম কন্ঠে ওপাশ থেকে বলে রুদ্র ।
.
“কি করিস?” _ প্রশ্নটা করে নিজের উপরই রাগ উঠে জয়ীতার। এটা কেমন প্রশ্ন হলো!
.
ওপাশে কিছুক্ষণ সময় নেয় রুদ্র। তারপর উত্তর দেয় ।
.
“ন্যাশনাল কাবাডি চ্যাম্পিয়ানশীপে যোগ দিবো। তাই তা প্রেক্টিস করছিলাম”
.
এপাশে জয়ীতা হেসে উঠে। রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে
.
“তোর যদি হাসা শেষ হয় তাহলে আমি রাখতে পারি?”
.
জয়ীতা শুভরাত্রি জানিয়ে লাইন কাটে। অবাক হয়ে লক্ষ করে তার রাগ চলে গেছে। বক্স থেকে গোলাপটা বের করে জয়ীতা। যত্ন করে একটা ফুলদানীতে রাখে সেটি। নিজের কান্ড দেখে আনমনে হেসে দেয় সে।
.
[]
.

পরেরদিন ক্যাম্পাসে এসে রুদ্রকে খুঁজে জয়ীতা । না পেয়ে ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ায়। তার ধারনা পরিচিত জনদের মধ্যে কেউ বক্স দেয়ার কাজটি করছে। একবার ভেবেছিল রুদ্রকে ফোন দিয়ে জিগেস করবে। পরে সে চিন্তা বাদ দিলো। অযথা বোকা হয়ে রুদ্রের পিত্তি জ্বালানো হাসি শুনতে চায় না সে।
.
ক্যান্টিনে রাকিবকে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে গেলো সে। সামনে বার্গার নিয়ে বসেছে খাদকটা। জয়ীতাকে দেখতেই মুখ কালো হয়ে গেল রাকিবে , একমাত্র জয়ীতায় তার খাওয়া পছন্দ করে না।
.
“কি রে হঠাত্‍ এদিকে?” _জয়ীতাকে বলল রাকিব
.
“তোর কি মনে হয় খিদা শুধু তোর লাগে?
.
জয়ীতার কথা শুনে চুপ হয়ে যায় রাকিব।
.
“শোন বাক্সটার ব্যাপার নিয়ে কথা আছে তোর সাথে” _ রাকিবের দিকে তাকিয়ে বল জয়ীতা। রাকিবের চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়
.
“কি কথা?” _ আমতা আমতা করে বলে রাকিব
.
“এ কাজটা কি তোর?” _ ভুর কুচকে জানতে চায় জয়ীতা।
.
“আমার কি দুনিয়াতে আর কাজ নেই? তোকে ঐসব দিয়ে বেড়াব কেন?” _ রাকিব বিরক্তি ভাব এনে বলে উঠে দাঁড়ায়। বার্গারটা টেবিলে রেখে হাটা ধরে।
.
জয়ীতার ইচ্ছা করছে নিজের চুল টেনে ছিড়তে। দুজনের কারো কাছে দাম নেই তার। মোবাইলটা হাতে নিয়ে রুদ্রের নাম্বার ডায়েল করে সে পরক্ষনেই অবাক হয়। রুদ্রকে ফোন দিলো কেন?? মনে মনে ঠিক করে জয়ীতা। রুদ্র না ধরলে আছাড় মারবে মোবাইলটি। রিং পরার কিছু সময় পর ওপাশ থেকে রুদ্রের কন্ঠ ভেসে আসে।

.

আমি ধিরে ধিরে বুঝছি জয়ীতা আমার প্রতি দুর্বল হচ্ছে। জয়ীতার মতো মেয়েকে যে কেউ ভালোবাসতে চায়বে। জয়ীতার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হলো তার চোখ। তার চোখের দিকে তাকালে আমার প্রতি তার ভালোবাসা স্পষ্ট খুঁজে পাই আমি।
.
– কিরে ড্যাব ড্যাব করে কি দেখছিস? _ চোখ বাকিয়ে জানতে চায় জয়ীতা।
.
আমি লজ্জা পেয়ে চোখ সরালাম। প্রসঙ্গ পাল্টাতেই বললাম
.
“রাকিব কোথায় রে?”
.
“জানিনা , গত দুদিন ক্যাম্পাসে এলো না। ফোন ও বন্ধ” _ আনমনে উত্তর দিলো জয়ীতা। আমি কথা বাড়ালাম না।
.
জয়ীতার চোখের পরের সৌন্দর্য হচ্ছে তার চুল। বাতাসে তার চুল উড়ছে। বারবার আড় চোখে তাকাচ্ছি আমি।
.
– রুদ্র
.
– হুম
.
– তোর বাসায় কে কে থাকে রে?
.
জয়ীতার প্রশ্ন শুনে অবাক হলাম অনেক। এত অবাক হওয়ার পিছনে কারণটি হলো জয়ীতার কন্ঠস্বর। কেমন যেন কৌতুহল
.
“কেউ নেই”
.
আমার উত্তর শুনে জয়ীতা অবাক হলো কিছুটা। তার চোখ দেখে স্পষ্ট বুঝে নেয়া যায়।
.
” মা , ভাই , বোন?”
.
“নেই , কেউ নেই” _ জয়ীতার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলাম আমি। জয়ীতা তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে।
.
“বাবা?”
.
জয়ীতার প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ হয়ে থাকলাম। অনেক কষ্টে নিজেকে বুঝিয়ে উত্তর দিলাম।
.
“বাবা মারা গেছে সেই ছোটবেলায়”
.
এরপর আমরা অনেকক্ষণ চুপ। দুজনই যেন কথা হারিয়ে ফেলেছি। অনেকক্ষণ পর জয়ীতা উঠে দাঁড়াল। তখন বিকেল গড়িয়ে পরছে।
.
“চল রুদ্র”
.
“কোথায়?”
.
“তোর বাসায়” _ হেসে উত্তর দিলো জয়ীতা। তারপর হাটা ধরল। আমি কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলাম।
.
যাওয়ার পথে জয়ীতার বাসা পরে। সে নেমে বাসা থেকে ব্যাগে করে কি সব নিয়ে বের হলো। আমি জিগেস করাতেও কোনো উত্তর দিলো না। …
.
[]
.
আমি আমার কিচেনে। জয়ীতার মাথায় শেইফের টুপি। জয়ীতার মতে সে খুব ভালো রাঁধুনী। বাসায় এসে জয়ীতা বুয়াকে ছুটিতে পাঠিয়ে নিজেই রান্নার দায়িত্ব নিয়েছে।
.
“দেখ জয়ীতা , আমার স্বাস্থ এমনিতে ভালো না। তার উপর তোর বানানো খাবারের ধকল সইতে পারব তো? ” _ টিপ্পনি কেটে বললাম আম।
.
রাঁধতে থাকা জয়ীতা রাগী রাগী চোখ নিয়ে তাকাল। আমি হাত দিয়ে কান ধরে হাসলাম।
.
“তোর রেসিপির নাম কি?
.
“ভুনা খিঁচুরী” _ হেসে বলল জয়ীতা।
.
আমি দাঁড়িয়ে জয়ীতাকে দেখছি। চেহারায় বিন্দুবিন্দু ঘাম। পিছনের চুল গুলো উড়ে এসে চোখের সামনে পরছে। আমি বারবার সরিয়ে দিচ্ছি সেই চুল। যতবার জয়ীতার চুল সরিয়েছি ততবার অদ্ভুত এক মায়া ভরা চোখ নিয়ে তাকিয়ে ছিলো জয়ীতা।
.
রাত নয়টা বাজে রান্না শেষ হলো জয়ীতার । আমাকে বাহির থেকে মোমবাতি আনতে পাঠালো সে। অনেক কষ্ট মোমবাতি নিয়ে বাসায় ফিরলাম। কিচেন, রুমে খুঁজে জয়ীতাকে না পেয়ে ঘাবড়ে গেলাম খুব। কিছুক্ষণ পর জয়ীতার কন্ঠ ভেসে এলো। আমি যেন ক্যান্ডেল গুলো রেখে বাহিরে যাই কিছুক্ষণের জন্য।
.
বাহির থেকে বাসায় ফিরে দেখলাম রুমের চারপাশে ক্যান্ডেল। মধ্যেখানে সাজানো টেবিল। এত আয়োজন সে করল কবে! ভাবতে ভাবতে নীল শাড়িতে কেউ একজনকে এগিয়ে আসতে দেখলাম। ক্ষোপায় বেলী ফুল , কপালে কালো টিপ। চোখে কাঁজল । আমার সামনে যেন স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোন আপ্সরী, জয়ীতা …
.
খাওয়া শেষ হতেই জয়ীতা গান প্লে করে আমার সামনে হাত বাড়িয়ে দিলো। আমি মনের সাথে যুদ্ধ করে হেরে গেলাম , সে হাত , সে ভালোবাসা উপেক্ষা করতে পারিনি।
.
[]
.
রাতে জয়ীতাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে ফিরতে ফিরতে রাত ১টা। বাসায় ঢুকতেই রাকিবের ফোন। কানে নিতেই অপাশ থেকে রাকিবে দারোয়ান কথা বলল। রাকিবের অবস্থা ভালো নেই , আমি যেন দেখা করি।
.
রাকিবে বাসায় যখন পৌছলাম তখন রাত দুটো। গায়ে ভীষণ জ্বর। ডাক্তার দেখে গেছে কিছুক্ষণ আগে। বহু পুরনো ভয়টি আবার ভর করলো মনে। কিছুতেই ভাবতে পারছিলাম না খারাপ কিছু। সারারাত রাকিবের হাত ধরে বসে রইলাম।
.
আমার এখনো রাকিবের সাথে সেই বন্ধুত্বের প্রথম দিনের কথা মনে। দুজন যাচ্ছিলাম ক্যাম্পাসে। মাঝ পথে এক্সিডেন্ট , পাগলাটা সারারাত হসপিটালে ছিলো। ডাক্তারে কাছে শুনেছিলাম পাগলের মতো করেছে সে।
.
মাঝ রাতে রাকিবের জ্বর নেমে এলো। আমি তাকে শুয়ে তার রুমের আশপাশ দেখছি। রাকিবে বাবা মা দুজনই দেশের বাহিরে গেছেন। ফোনে দুবার কথা হলো, তাদের ফোন দিয়ে জানালাম ভয়ের আর কিছু নেই।
.
ফজরের আযান শুনে বারান্দা থেকে বেরিয়ে রাকিবের স্টাডিরুমে ঢুকলাম। টেবিলের দিকে চোখ যেতেই থেমে গেলো। রাকিবের ডায়িরী !!
.
স্টাডিরুমে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। ঘুম ভাঙ্গলো রাকিবের ডাকে
.
“রুদ্র তুই বরং রুমে গিয়ে ঘুমা। আমি এখন ভালো আছি” _ আমার কাধে হাত রেখে বলল রাকিব।
.
আমি তার কথায় সাই জানিয়ে উপরে উঠে গেলাম। ঘুম যখন ভাঙ্গল তখন বেলা গড়িয়ে দুপুর। নিচে নামতেই ড্রইং রুমে জয়ীতার আর রাকিবের হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। দুর থেকে তাকিয়ে দেখছি তাদের। দুজনের হাসি তাদের বেশ মানিয়েছে …
.

.
– এই রুদ্র , শোন .. পিছন থেকে জয়ীতার ডাক শুনে হাটতে গিয়ে থেমে গেলাম
.
“কি হয়েছে তোর? ডাকছি যে শুনছিস না? _ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল জয়ীতা।
.
“খেয়াল করিনি” _ অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললাম আমি।
.
আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলো জয়ীতা। তারপর বলল
.
” এ কয়টা দিন কোথায় ছিলি তুই? ”
.
“বাহিরে”
.
“তোর ফোন অফ কেন?” _ আমার হাত ধরে বলল জয়ীতা।
.
আমি জয়ীতার দিকে স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাত সরিয়ে নিলাম। ততকক্ষণে রাকিব এসে দাঁড়িয়েছে। জয়ীতা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলো।
.
রাত নয়টায় বাসায় কেউ আসে না। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি। কলিং বেলে চাপ পরছে অবিরত। তড়িগড়ি করে নেমে দরোজা খুললাম, জয়ীতা দাড়িয়ে আছে …
.
[]
.
জয়ীতা আমার বসার রুমে। আমার দিকে তাকিয়ে আছে স্থির দৃষ্টিতে।
.
– তুই এমন করছিস কেন রুদ্র?_ কান্না চেপে বলল জয়ীতা। আমি স্পষ্ট তার চোখে পানি দেখতে পারছি।
.
– আমি কিছুই করছি না
.
– আমাকে এড়িয়ে চলছিস কেন
.
– কারণটা খুব সহজ জয়ীতা। তোর প্রতি আমার কোনো ইমোশন নেই। তাহলে কেন তোর ন্যাকামো গুলোকে প্রাইয়োরিটি দিবো? _ জয়ীতার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি।
.
জয়ীতা স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে। তার হাত কাঁপছিল। আমি নিজেকে সামলে রেখে বললাম।
.
– জয়ীতা , ঐদিনের সব আমার ছেলেমানুষী আবেগ ছিলো। এসবে আমি নেই।
.
জয়ীতা কিছু বলল না। উঠে পা বাড়াল। আমার খুব ইচ্ছে করছিল জয়ীতাকে ফেরাতে। আমি দুজনের কাউকে আমার অস্তিত্বের সাথে মিশাতে চাইনা।
.
[]
.
পরের দিন ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখলাম জয়ীতা এলোনা। খুব ইচ্ছে হচ্ছিল ফোন দেয়ার, দেইনি। আমাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে রাকিব এগিয়ে এলো
.
“ইদানিং তুই এমন হয়ে গেছিস কেন রুদ্র?”
.
“আমি আবার কি হলাম?, ঠিক আছি” _ বলেই হাসলাম। রাকিব কিছু না বলে তাকিয়ে রইল।
.
জয়ীতা প্রায় ১ সপ্তাহ ক্লাসে এলো না। তার একদিন হুট করে ক্যাম্পাসে হাজির। এসেই রাকিবকে খুঁজছে। আমি আর রাকিব বসে ছিলাম সেই পছন্দের জায়গাটিতে।
.
রাকিব কথা বলতেই থেমে গেলো। জয়ীতা রাকিবের পাশে দাড়িয়ে। জয়ীতার হাতে গোলাপ ফুল। রাকিব উঠে দাঁড়াতেই জয়ীতা চড় বসিয়ে জড়িয়ে ধরল রাকিবকে। রাকিবের চেহারায় হাসি। হুট করে তার কাছে সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে।
.
[]
.
ক্লাসের ঝগড়াটে দুজন হুট করে লাভ বার্ড হয়ে গেলো। জয়ীতা আর রাকিব। ঐদিনের পর থেকে জয়ীতা এড়িয়ে চলত আমি। আমার খারাপ লাগত না। রাকিবের চেহারায় হাসি দেখে মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পেরেছি আমি।
.
ধীরে ধীরে ভার্সিটি দিন গুলো শেষ হয়ে গেলো। সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যাস্ত। একদিন সন্ধায় ছাদে বসে আছি। জয়ীতা এলো ..
.
“রুদ্র”
.
সেইদিন অনেকদিন পর জয়ীতার মুখে আমার নাম শুনতে পেয়েছি আমি।
.
উঠে দাঁড়িয়ে হাসলাম। জয়ীতার চোখে ভালোবাসার জায়গায় ঘৃণা দেখেছিলাম স্পষ্ট। পিছন থেকে রাকিব ও এলো। কাছে এসে জড়িয়ে ধরল আমাকে। রাকিবের হাতে বিয়ের কার্ড
.
কার্ডটা হাতে নিয়ে হাসলাম আমি। জয়ীতার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। সেদিন অনেকক্ষণ ছিলো তারা দুজন। আমি একটাবারের জন্যেও জয়ীতার চোখের দিকে তাকাতে পারিনি।
.
যাওয়ার আগে জয়ীতা একটা চিঠি রেখে গেলো। ঐ চিঠি পড়ার সাহস হয়নি আমার।
.
জয়ীতার বিয়ের দিন পুরোটা সময় ছিলাম। রাতে যখন ফিরলাম বাসায় তখন সফ কিছু শুন্য শুন্য মনে হচ্ছিল। ঘুমতে গিয়ে মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গল মায়ের ডাকে। চোখ খুলার পর সেই ছোট্ট খোকার মতো মাকে খুঁজলাম। মা এলেন না , আমি অনেকদিন পর চিত্‍কার করে কাঁদলাম। কেউ আসেনি সে কান্না থামাতে ..
.
.


.
জয়ীতার ঘুম ভাঙ্গলো সকাল ৮ টায়। পাশে রাকিব শুয়ে আছি। তাদের বিয়ের এক বছর হয়েছে আজ। ফ্রেস হয়ে নিচে নামল জয়ীতা। বাগানের পাশে দোলনাটিতে সেই পরিচিত বাক্সটি দেখে এগিয়ে গেলো।
.
বাক্সটি দেখে আনমনে হাসল রাকিবের পাগলামো দেখে। আজ বৃহষ্প্রতিবার। পাগলটার এই গিফটের জন্য গতকাল রাত অপেক্ষা করেছিল সে।
.
রাকিব ডাইনিং টেবিলে সামনে বসে আছি। টেবিলে থাকা বাক্সটি দেখে অবাক হলো রাকিব
.
“এটা কে পাঠিয়েছে?_ জয়ীতার দিকে তাকিয়ে জিগেস করল সে।
.
জয়ীতা মুচকি হাসল। রাকিবে রসিকতা তার জানা আছে।
.
“কিছু জিগেস করেছি জয়ীতা” _ এইবার একটু রূঢ় ভাবে বলর রাকিব। অবাক হয়ে তাকাল জয়ীতা
.
“গোলাপ , আর বাক্স চিনতে অসুবিধা হচ্ছে?” _ রাকিবের দিকে তাকিয়ে বলল জয়ীতা।
.
” বিয়ের পরেও কে এমন করছে, খুঁজে দেখেছ?” _ জয়ীতার দিকে তাকিয়ে জানতে চায় রাকিব।
.
জয়ীতা অবাক হয়ে তাকায়। ছুটে যায় উপরের ঘরটিতে। প্রত্যেক গোলাপের সাথে থাকা চিরকুট খুলে দেখে। ধিরে ধিরে পরিষ্কার হয়ে আসে সব।
.
[]
.
জয়ীতা যখন রুদ্রের বাসায় এলো তখন বাড়িটিতে শুধু তার কেয়ারটেকার । রুদ্র নেই
.
“রুদ্র কোথায়? _ রাকিবের কন্ঠে উদ্ভেগের ছাপ স্পষ্ট
.
“গতকাল রাতেই বের হয়ে গেছেন”
.
“কোথায় গেছে জান কিছু? _ জয়ীতা এগিয়ে এসে জিগেস করে।
.
উত্তরে চুপ থাকে বাড়ির লোকটি। জয়ীতা আর রাকিব এগিয়ে স্টাডি রুমের দিকে। সেইদিন রাতটিতে ডায়িরী দেখেছিল জয়ীতা। তা কি এখনো আছে?
.
ডায়িরীর এক একটি পৃষ্টে পড়ে যাই জয়ীতা। চোখে অবিরত পানি ঝড়ছে। রুদ্রের সব কিছু লিখা আছে তাতে। রুদ্র জানত জয়ীতার ভুল কোন এক সময় ভাঙ্গবে। ছুটে আসবে সে। জয়ীতার সাথে রুদ্রের প্রথম দেখার দিনটি বৃহষ্প্রতিবার ছিলো। বাক্সটির মানুষ্টি আর কেউ নয় রুদ্র। রাকিব ও কাঁদছে। শেষ পৃষ্টায় এসে থমকে যায় দুজন। পৃষ্টেটি ছিড়া , রুদ্র তার শেষটা ভেবে রেখেছে অনেক আগেই। তা শুধুই সেই জানে।
.
[]
.
মার্কেটের পথ ধরে হাটছি। আমি কি করতে যাচ্ছি. কি করতে হবে তা জানা আছে আমার। রাস্তার শেষ প্রান্তটিতে একজন বুড়ো লোক রোজ ভিক্ষা করতে বসেন। বাড়ি থেকে বেড় হওয়ার আগে সব বলে এসেছে বাড়ির লোকটিকে। নতুন সাহেব আসবে। তাকে যেন দেখে রাখে।
.
কাঁপা কাঁপা পা নিয়ে এগিয়ে যায় আমি। বৃদ্ধ লোকটি পথচারী দেখে হাত বাড়িয়ে দেয়। পকেটে রাখা কাগজটি তার হাতে দিয়ে হাটা ধরি আমি। তাতে লিখা আছে সব। বাবার ঐ মুখের দিকে তাকানোর শক্তি আমার নেই।
.
বাবাকে কাছে পেয়ে ইচ্ছে হয়েছিল জড়িয়ে ধরি। তার পাপের শাস্তি পেয়েছেন তিনি। তবুও সাহস হয়নি। বাবাকে কাছে পেয়ে হারানোর সাহস নেই আমার।
.
আমি কতকক্ষণ হেটেছি জানি না। বৃষ্টিতে ভিজে শরীর ক্লান্ত। আমি জ্বরের মাঝেও মায়ের কন্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। অবাক হয়ে লক্ষ করলাম মা আজ কাঁদছেন না।
.

#

রুদ্রের বাবার হাতে রুদ্রের ছবি। বাবার জন্য যত্ন করে চিঠি লিখে রেখে গিয়েছিল রুদ্র। রুদ্রের বাবা সে চিঠি পড়ে কাঁদছেন। তার ইচ্ছে করছে ছেলেকে একটিবার বুকে জড়িয়ে ধরতে। কিছু অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত থাকে না
.
‪#‎সমাপ্ত‬

লেখাঃ আশরাফ মামুন
‪#‎অস্তিত্ব‬

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s