সারপ্রাইজের উপ্রেও সারপ্রাইজ আছে

Post ID # 022

ঢাকা যাচ্ছিলাম। বাসে আমার এক ফ্রেন্ড ফোন দিলো। ফ্রেন্ডদের নানা বৈশিষ্ট্য থাকে। আমার এই ফ্রেন্ড হলো ঋণী ফ্রেন্ড। টাকা হাওলাত করা ইনার শখ। ফোন ধরলাম; কেননা এখন হাওলাত দেয়ার জায়গায় নাই আমি। বহু দুরে আছি।

– হ্যালো!!

— হুম। বল দোস্ত।

– দোস্ত আমি তো তোরে গরু খোজা খুজতেসি।

— ক্যান দোস্ত??

– সেটা দেখা কইরা বলতেসি। তুই কই??

— আমি তো ঢাকা যাই।

– কস্কি! কোন বাসে আছস??

— তিশা।

– কই এখন??

— কাচপুর্।

– কই নামবি??

— সায়দাবাদ।

– তাইলে তো দেখা করা কষ্ট হইবো। আচ্ছা দোস্ত এক কাম কর্। সায়দাবাদ নাইমা আমারে একটা মিসকল দিস। তোর লাইগা সারপ্রাইজ আছে।

অবাক হয়েই ফোন কেটে দিলাম। আমার জন্যে সারপ্রাইজ! সূর্য কোন দিকে উঠলো!!একটু আগ্রহী হয়া উঠলাম। যাই হোক কিছুক্ষনের মাঝেই পৌছে গেলাম সায়দাবাদ। গিয়ে আবার ফোন দিলাম ফ্রেন্ডকে।

— কি তোর সারপ্রাইজ? আমি সায়দাবাদ।

– সায়দাবাদ গেছস গা?? রেল ক্রসিং এর ওইদিকে যা।

— ওই দিকেই আছি।

– তাইলে রেলক্রসিং এর যে দিক কমলাপুরে গেছে সে দিকে একটা টং আছে দেখ।
— হুম। আছে তো।

– টং এর উপরে দেখ সানসিল্ক শ্যাম্পুর এ্যাড!

— হুম। তো??

– তুই না সানসিল্ক শ্যাম্পুর এ্যাডের মেয়েটার উপরে ক্রাশড?? তাই দেখাইলাম।

— কি??

– খুশি হইসোস??

— এইডা তোর সারপ্রাইজ!! আমি গুলিস্তান না নাইমা সায়দাবাদ আইলাম এই এ্যাড দেখার লাইগা?? তোরে সামনে পাইলে এখন কিলায়া!!!!
কথা শেষ করার আগেই কাধে একটা হাত পড়লো। একটু চমকে উঠেই তাকালাম। দেখি ফ্রেন্ড হাজির!

— তুইইইই??

– হ! তুই কইলি আমি তোর সামনে থাকলে নাকি কি না কি করবি। মানে আমারে মিস করতেসিলি! তাই এক্কেরে সামনে আইসা গেলাম।
আমি হতবাক হয়ে বাকরুদ্ধ স্টেটে দুই ঠোট এর মাঝে আড়াই ইঞ্চি গ্যাপ রেখে ফেবুর সারপ্রাইজড ইমো বনে দাড়ায় আছি। একেই বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়! মানিব্যাগে বেশ কিছু টাকা আছে। আজকে আমি গেছি! হয়তো বাস ভাড়াটা দিয়ে বাকি মানিব্যাগটাই নিয়ে চলে যাবে এই পাবলিক!!

– যাই হোক! কেমন ছিলো সারপ্রাইজ??

— কোনটা??
– কোনটা মানে??

— এ্যাড নাকি তোর আগমন??

– দুইটাই!

— সেই দোস্ত। জীবনে এতো বড় সারপ্রাইজড আমি আর কখনো হইনাই।

– থ্যাঙ্কস দোস্ত। তুই খুশি হইসোস এটাতেই আমি খুশি। এই খুশিতে আমার দুই হাজার টাকা ধার নিতে ইচ্ছা করতেসে

— মারসস! ক্যান??

– গার্লফ্রেন্ড আসতেসে বনানী থেকে; ফার্মগেট দেখা করবো। একটু ঘোরা ঘুরি করবো।

— তো??

– টাকা কই?? তুই আমারে দে; আমি বিশ মিনিট পর দিয়া দিতাসি।
— বিশ মিনিট??

– মানে বিকালের মধ্যে আরকি।

— বিকালের মধ্যে??

– মানে এই সপ্তাতেই দিয়া দিবো। প্লিজ দোস্ত!

— দুই হাজার টাকা! এত টাকা তো আমি জীবনে কখনো একসাথেই দেখিনাই আমার কাছে নাই দোস্ত।

– মিথ্যা বলা মহাপাপ। তোর কাছে আছে। আর যদি না থাকে তাইলে আমি নিবোনা; ওকে?? দেখি তোর মানিব্যাগটা!! আমার তাড়া আছে। তাড়াতাড়ি যাইতে না পারলে গার্লফ্রেন্ড রাগ করে বসে থাকবে!
মানিব্যাগের দিকে হাত বাড়াচ্ছে ফ্রেন্ড। আমার লিভার এ মোচড় দিয়ে উঠলো! মানিব্যাগে আমার কলেজের বেতন পাচ হাজার টাকা আছে। ওইটা গেলো!!!

ঠিক এই সময় চোখ পড়লো দুই জন লোকের উপরে। দুইজনেই খুব উতসুক হয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। চিনে ফেললাম আমি। আমাদের খুব কাছেই দাড়ায় আছে কিনা! আমি তাদের শোনায় শোনায় একটু গলা উচু করে বললাম –

— কিইই?? তুই কুমিল্লা যাওয়ার বাস খুইজা পাস না??? সায়দাবাদে দাড়ায় কুমিল্লা যাওয়ার বাস টোকাস!!
– কুমিল্লা যাওয়ার বাস মানে? আমি ফার্মগেট যামু। মানিব্যাগটা দে!

আমার আর কিছু করা লাগলোনা। ওই দুই ব্যাক্তির কর্নে আমার কথা পৌছায় গেছে। দুইজন এর একজন এশিয়া লাইন বাসের কন্ডাকটর আরেকজন তিশা বাসের্। দুইজনেই একসাথে ফ্রেন্ডের দুই কাধে হাত দিয়ে টান দিলো।

– ভাই আমাগোরটা আগে যাইবো।
– ভাই আমাগোরটা এক্ষুনি ছাইড়া দিতেসি।
– আমাগো বাস আগে না পৌছাইলে আপনি ভাড়াই দিয়েন না।

– তাগো দশ মিনিট আগে পৌছাইতে না পারলে ভাই কন্ডাকটারি ছাইড়া দিমু।

– ভাই আসেন!!

বাকি কথা কানে এলো না। কেননা উল্টা অবস্থাতেই ছেচড়ায় বেচারাকে টানতে টানতে দুইজন দুই বাসের দিকে রওনা হইসে। ফ্রেন্ড কিঞ্চিত চ্যাংদোলা অবস্থায় আছে। তার এখনকার অবস্থা হইতেসে হতবাক হয়ে বাকরুদ্ধ স্টেটে দুই ঠোট এর মাঝে আড়াই ইঞ্চি গ্যাপ রেখে ফেবুর সারপ্রাইজড ইমো বনে যাওয়ার মতো অবস্থা। এই অবস্থা দেখে এশিয়া লাইন আর তিশা এক্সক্লুসিভ এর বাকি হেলপার কন্ডাকটারদের টনক নড়লো। তারাও হাত লাগালো এই টানাটানিতে। আমি আর না দাড়ায় চম্পট দিলাম।

এক ঘন্টা পর আবার ফ্রেন্ডের ফোন। ভয়ে ভয়ে রিসিভ করলাম।

— দোস্ত বল!

😥 এইটা তুই কি করলি! আমি এখন কুমিল্লায়!!

— হ্যালো?? হ্যালো???? কিছু শোনা যাচ্ছেনা!! তুই ডেটিং এ?? গুড লাক দোস্ত!!

ফোন কেটে দিলাম।
সারপ্রাইজের উপ্রেও সারপ্রাইজ আছে। তার উপ্রেও ওভার সারপ্রাইজ আছে 😀

By: কনজেনিটাল পাগলা